1 Answers
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থাটি একটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা এবং 'খ' রাষ্ট্রে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। মিশ্র অর্থনীতির চেয়ে ধনতন্ত্রে অধিক শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ যেমন- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন। ব্যক্তি তার সম্পদ দ্বারা ভূমিন মালিকানা অর্জন করতে পারে। শ্রমিকফে ইচ্ছামতো নিয়োগ দিতে পারে। ইচ্ছামতো পুঁজি বা মূলধন গঠন করতে পারে। নিজস্ব ইচ্ছা ছারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অবাধ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। সর্বাধিক মুনাফার জন্য উদ্যোক্তা বা পুঁজিপতি দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে ও বিক্রয়মূল্য বেশি পেতে চেষ্টা করে। উৎপাদন ব্যয় কম রাখার জন্য শ্রমিককে তার ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়। এ উদ্বৃত্ত মজুরি পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তার কাছে মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয়। এতে পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তা শ্রেণি তাদের অবস্থার উন্নতি করার সুযোগ পায়। ফলে মালিক শ্রেণি আরও ধনী হয়ে ওঠে। অপরদিকে, উৎপাদিত সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও শ্রমিকের কম মজুরি তাদের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক হয় না। ফলে তারা সামান্য প্রতিকূলতার কাছে হার মেনে আরও বঞ্চিত হয়ে পড়ে। এভাবে শ্রমিক প্রাপ্যের চেয়ে কম মজুরি পায় ও পুঁজিপতি বা উদ্যোক্তা তাদের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেন। যেহেতু পুঁজিপতির সংখ্যা কম, তাই একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর হাতেই সমাজের অধিকাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়। আর শ্রমিক অগণিত। তাই সমাজের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী মোট সম্পদের ক্ষুদ্র অংশ ভোগ করে। ফলে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য প্রকট হয়।। আবার সমাজতন্ত্রের মিশ্রণ থাকায় মিশ্র অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষিত হয়। তাই উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের তুলনায় 'খ' রাষ্ট্রে অধিক শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়।