1 Answers
উদ্দীপকের 'ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক এবং 'খ' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই অধিক প্রযোজ্য।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দেশে সাংবিধানিকভাবে সমাজতন্ত্র অভিমুখী অর্থনীতি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বড় বড় কলকারখানা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, কোম্পানি, পরিবহণ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক শিক্ষা, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দক্ষ প্রশাসক, ব্যবস্থাপক, উদ্যোক্তাসহ মানবসম্পদের ব্যাপক ধ্বংস সাধিত হয়। ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠাসমূহে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান লোকসানের সম্মুখীন হয়। ফলে বেসরকারি খাত ও ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ধারা নব্বই-এর দশক পেরিয়ে বর্তমানেও চালু আছে। বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সমতালে চলার লক্ষ্যে মুক্ত বাজার অর্থনীতির বিকল্প নেই। বাংলাদেশেও একই লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশে বেসরকারি খাত ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদন কার্য পরিচালনা করা হলেও উদ্যোক্তা ও ভোক্তার স্বাধীনতা রয়েছে, রয়েছে সরকারি নিয়ন্ত্রণও।
পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র সফল হতে পারেনি এবং ধনতান্ত্রিক এর প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থব্যবস্থা সফলতার দ্বারপ্রান্তে, তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' দেশের অর্থব্যবস্থাটিই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য।