1 Answers

প্রামাণ্য চিত্রের দেশটির সাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কিছু উল্লেখযোগ্য মিল লক্ষ করা যায়। 

উদ্দীপকের দেশটির জনগণ ১৯৪৭ সালের কোনো এক সময়ে একটি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কবল থেকে রক্ষা পেয়ে আবার পরাধীন হয়ে পড়ে। তেমনি বাংলাদেশেও ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি শাসনব্যবস্থা গৃহীত হয়। বাংলাদেশ তখন পূর্ব পাকিস্তান নামে পাকিস্তানের অংশ ছিল। পাকিস্তান গণপরিষদে দেশের সংবিধান প্রণয়ন করতে ৯ মাস সময় লাগে। এসময় পার্লামেন্টারি শাসনের নামে গভর্নর জেনারেল এবং আমলারাই দেশ শাসন করত। সংবিধান প্রণয়নের আড়াই বছরের মাথায় জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি সোচ্চার হয়েছে। অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে এবং সেটিই ছিল শেষ নির্বাচন। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর চূড়ান্ত পরিণতি পাকিস্তানের ভাঙন। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

উদ্দীপকের ঘটনা দ্বারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ইতিহাসের মিল রয়েছে। উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে আমি মনে করি। 

পরিশেষে বলতে পারি, স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার চালু করা হয় এবং সেই লক্ষ্যে ১৯৭২-এর সংবিধান প্রণীত হয়।

4 views

Related Questions