1 Answers
মিথের পিতা ত্রিপুরার দক্ষিণের যে দেশটির কথা বলেছেন সেই দেশটি হলো বাংলাদেশ। কারণ পাঠ্যপুস্তকে আমরা দেখতে পাই, ত্রিপুরার দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশের মাঝামাঝি সম্মান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এবং বাংলাদেশের মোটা ক্ষেত্রের পরিমাণ ৫৭ হাজার বর্গমাইলের চেয়ে একটু কম সামর্থাৎ। ৫৬/৯৭৭ বর্গমাইল। উদ্দীপকের দেশটির বর্ণনার সাথে বাংলাদেশের সিল রয়েছে। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল বা উচ্চভূমি বলতে। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে বোঝায়। বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার। এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে কেওক্রাডং, যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার। এছাড়া এ অঞ্চলের আরও দুটি উচ্চতর পাহাড় চূড়া হচ্ছে মোদকমুয়াল (১,০০০ মিটার) এবং পিরামিড (৯১৫ মিটার)। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।
পরিশেষে বলা যায়, মিথের পিতা বাংলাদেশের কথাই বলেছেন।