1 Answers

মহাযোগী যোগ সাধনার যে আটটি স্তরের কথা বলেছেন সেগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ বলে। যোগের এ আটটি স্তর নিচে দেওয়া হলো-

১. যম: অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম। যম অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। অহিংসা, সত্য, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ এ পাঁচ প্রকার যম। 

২. নিয়ম : অষ্টাঙ্গ যোগের দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে নিয়ম। মহর্ষি পতঞ্জলি শৌচ, সন্তোষ, তপ, স্বাধ্যায় এবং ঈশ্বর প্রণিধান এ পাঁচ নিয়মের উল্লেখ করেছেন।

৩. আসন : আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা। দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থানকে আসন বলে। এটি যোগসাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

৪ . প্রাণায়াম: প্রাণায়াম অর্থ প্রাণের আয়াম। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। সুতরাং প্রাণায়াম বলতে বোঝায় শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস বিস্তারিত অর্থাৎ দীর্ঘায়িত করা যায়।

৫. প্রত্যাহার: প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে।

৬. ধারণা: মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা। ধারণা অর্থ একাগ্রতা। একাগ্রতা ছাড়া জগতে কিছুই আয়ত্ত করা যায় না। কোনো বিষয় আয়ত্ত করতে হলে চিত্তবৃত্তিকে বিষয়ান্তর থেকে প্রত্যাহার করে এ বিষয়ে স্থাপন করতে হয়। ঈশ্বর লাভ করতে হলে ঈশ্বরের একাগ্রচিত্ত হতে হয়। ধারণার মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়।

৭. ধ্যান : ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। মন যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোম হতে পারে। ধ্যানের মাধ্যমে যোগীর সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায়।

৮. সমাধি: সমাধির মাধ্যমে যোগীর ঈশ্বরের সাথে মিলন ঘটে। তখন তার 'আমি' বা 'আমার' জ্ঞান থাকে না, কারণ তখন তাঁর দেহ, মন ও বুদ্ধি স্তব্ধ থাকে। সাধক তখন প্রকৃত যোগ লাভ করেন।

5 views

Related Questions