1 Answers
ড. পরেশ চন্দ্র মন্ডলের বক্তব্যের আলোকে যোগসাধনার ধারণা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
'যোগ' শব্দটি সাধারণভাবে মিলনের অর্থই ব্যক্ত করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধন ক্ষেত্রে এর অর্থ আরও গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই যোগসাধনা। ভগবানই যে সবকিছুর মূলে, সবকিছুর উৎপত্তি যে তাঁর থেকেই এবং আমাদের উৎপত্তির মূলেও যে তিনি আমরা সেকথা বুঝতেই পারি না। আমরা দেখি প্রত্যেকেই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বতন্ত্র সত্তা। সংসারের সঙ্গে আমাদের যোগ রয়েছে বটে, বস্তু ও বিশ্বের সঙ্গেও যোগ রয়েছে, কিন্তু যাকে বলা হয় মূলসত্তা তাঁর সঙ্গেই কোনো যোগ নেই। এ বস্তুযোগ নিয়ে আমাদের জীবন একভাবে কেটে যেতে পারে, কিন্তু তাতে জীবনের প্রকৃত চরিতার্থতা পাওয়া যায় না, জীবন হয়ে যায় গতানুগতিক ও অর্থহীন। আমাদের মন তাই এরকম জীবন নিয়ে খুশি থাকতে পারে না। সে চায় এ গতানুগতিকতার ঊর্ধ্বে কিছু বৃহত্তর চেতনা লাভ করতে। সেরকম চেতনা অল্প জাগলেই সে বলে বসে মূলসত্তার সঙ্গে আমার সংযোগ চাই, তিনি আর আমি যে এক-একথা আমার উপলব্ধি হওয়া চাই। সংসারের সঙ্গে আমার প্রকৃত যোগ নয়, অর্থ ও বস্তু সম্পদের সঙ্গেও আমার প্রকৃত যোগ নয়, আমার প্রকৃত যোগ কেবল তাঁর সঙ্গে যখন তাঁর চেতনার সঙ্গে আমার চেতনার কোনো পার্থক্য নেই। তাঁর সঙ্গে আমার মিলন ঘটানোর যে প্রচেষ্টা তারই নাম যোগসাধনা।