"উক্ত দেশের মাথাপিছু আয় সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করে" বিশ্লেষণ কর (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উক্ত দেশ তথা উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের মাথাপিছু আয় সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করে- উক্তিটি যথার্থ।
উচ্চ মাথাপিছু আয় উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করে। তবে জীবনমান নির্ধারণের জন্য উচ্চ মাথাপিছু আয়ের সাথে দ্রব্যমূল্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। যদি কোনো বছরে কোনো দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়ে যায়, আবার একই সাথে দ্রব্যের মূল্যস্তরও দ্বিগুণ হয়, তাহলে প্রকৃতপক্ষে জীবনযাত্রার মান একই থাকবে। কারণ ঐ দ্বিগুণ আয় দিয়ে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে একই পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করতে পারবে। অর্থাৎ তার আর্থিক আয় দ্বিগুণ হলেও তার প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পায়নি। কারণ আর্থিক আয় ও দ্রব্যমূল্য একই হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মূল্যস্তর অপরিবর্তিত থেকে মাথাপিছু আয় বাড়লে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে এবং মাথাপিছু আয় কমলে জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাবে। তাই উদ্দীপকের দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান যাচাইয়ের আগে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ যাচাই করে নিতে হবে। যেমন-
মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয় / মোট জনসংখ্যা
= ৩২০০০ কোটি টাকা / ১৬ কোটি টাকা
= ২০০০ টাকা
= ২৫ ডলার প্রায়
পাঠ্যবই অনুযায়ী ১০০৫ ডলার অথবা তার কম মাথাপিছু আয়ের দেশ নিম্ন আয়ের দেশের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকের দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় প্রায় ২৫ ডলার, তাই উদ্দীপকের দেশটিকে নিম্ন আয়ের দেশ বলা যায়। নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে এ দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান নিম্ন হবে। মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি দেখা দিবে। আর্থসামাজিক পরিবেশের মানও ততটা ভালো হবে না। ব্যাপক বেকারত্ব, শিক্ষার নিম্নহার, ক্ষুধা, দরিদ্রতা বিরাজ করবে। অসামাজিক কার্যকলাপ দানা বাধবে। এভাবে মাথাপিছু আয় দ্বারা জনগণের জীবনযাত্রার মান নির্ধারিত হয়ে থাকে।