1 Answers
উদ্দীপকের সাথে আমরা পাঠ্যবইয়ের নাগরিকের ধারণার মিল দেখতে পাই।
জন্মগতভাবে মিতুল ও তার বাবা-মা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা দেশের আইনকানুন মেনে চলে এবং সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। পাঠ্যপুস্তকে নাগরিকের ধারণাতেও আমরা এ ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। যখন একটি রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করে তখন সেই জনসমষ্টি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়। রাষ্ট্রের সঙ্গে এর নাগরিকের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আধুনিক ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জে. লাস্কি নাগরিকের সংজ্ঞায় বলেছেন, "যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলা হয়।” সুতরাং নাগরিকত্ব বলতে বোঝায়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বাধ্য হওয়া। নাগরিক হচ্ছেন তিনি যিনি ঐ রাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাস করেন এবং রাষ্ট্রের আইন, সংবিধান এবং অন্যান্য নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধনে নিজের কর্মের মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন এবং রাষ্ট্র কর্তৃক বণ্টনকৃত সকল সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করেন। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সকলেই সমান এবং আধুনিক নাগরিকত্বে সমাজের নারীপুরুষ, সকল ধর্ম, গোত্র সকলেই নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারে। অতএব দেখা যায়, উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের নাগরিকের ধারণায় মিল রয়েছে।