1 Answers
সৎসাহস ধর্মের অঙ্গ' কিশোর বাহাদুরের সৎসাহসের আলোকে কথাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সৎসাহস কথাটির সামগ্রিক অর্থ হলো, সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। অন্য কথায় নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও, দেশের মঙ্গলের জন্য নিজের শক্তি দ্বারা যথাসাধ্য চেষ্টা করা বা সাহস প্রদর্শন করাই 'সৎসাহস'। সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার। তারা সমাজের, দেশের বা জাতির যেকোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করে না। যার দৃষ্টান্ত উদ্দীপকের কিশোরের মূল্যবোধে লক্ষ করা যায়।
কিশোর বাহাদুর বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে দেখতে পেল পিস্তল হাতে চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী একটি প্রাইভেট কারকে থামিয়ে একজন ব্যবসায়ীর হাতে থাকা ব্রিফকেসটি ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং -আরেকজন লোকটিকে আঘাত করছে। এমন অবস্থায় সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই লোকটিকে উদ্ধার করে। তার এরূপ কর্মকান্ডে সৎসাহসের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সৎসাহসের এরূপ দৃষ্টান্ত রামায়ণ, মহাভারত, পূরাণ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থে অনেক বীরের কাহিনিতে বর্ণিত আছে। যেখানে রাম, অর্জুনদের মতো ব্যক্তিরা সৎসাহসের জন্য। বিখ্যাত হয়েছেন। কৃত্তিবাস 'অনূদিত রামায়ণে বালক তরণীসেনের সৎসাহসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সৎসাহস কথাটির সামগ্রিক অর্থ হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। কোনো মিথ্যাকে ধারণ না করা। দুর্বলকে বা অত্যাচারিত ব্যক্তিকে অত্যাচারীর কবল থেকে রক্ষা করা। আর এসবই ধর্মের কথা। তাই বলা যায়, সৎসাহস ধর্মের অঙ্গ।