1 Answers
উদ্দীপকে এমন একটি সংগঠনের পটভূমি আলোচনা করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর শান্তিকামী মানুষের প্রচেষ্টায় সংগঠিত হয়। পরবর্তী আরেক যুদ্ধের পর আবার কার্যক্রম শুরু করে।
পাঠ্যপুস্তকে আমরা দেখতে পাই, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'লীগ অব নেশন্স' সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু 'লীগ অব নেশন্স'-এর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে বিশ্বশান্তি বিধানে তা ব্যর্থ হয়। ১৯৩৯ সালে পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে। সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ পাঁচটি প্রধান অঙ্গ এবং একটি সেক্রেটারিয়েট নিয়ে গঠিত। পাঁচটি অঙ্গ হচ্ছে- ১. সাধারণ পরিষদ, ২. নিরাপত্তা পরিষদ, ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, ৪. অছি (তত্ত্বাবধায়ক) পরিষদ এবং ৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয় বা আদালত। জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত। একে 'বিতর্ক সভা' বলে অভিহিত করা যায়। নিরাপত্তা পরিষদ হচ্ছে জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী সভা। ৫টি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী মোট ১৫টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে এটি গঠিত। ৫টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র হচ্ছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। এদের প্রত্যেকের 'ভেটো' প্রদান বা কোনো প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাজ হচ্ছে ঐসব ক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নয়ন ও অগ্রগতি। স্বাধীনপ্রাপ্ত নয় এরূপ বিশেষ এলাকায় তত্ত্বাবধানের জন্য অছি পরিষদ গঠিত। আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের কাজ। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে এর কার্যালয় অবস্থিত। সেক্রেটারিয়েট হচ্ছে জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিভাগ। সেক্রেটারি জেনারেল বা মহাসচিব এর প্রধান নির্বাহী। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তর অবস্থিত।