উক্ত প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির পিছনে রয়েছে ব্যাপক ইতিহাস- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে একটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে সদস্যপদ লাভ করে এবং এ প্রতিষ্ঠানটি হলো জাতিসংঘ। বাংলাদেশ ঐ প্রতিষ্ঠানটির সনদের নিয়মকানুন মেনে চলে এবং বিশ্বের ১৯৩টি দেশ এ প্রতিষ্ঠানটির সদস্য।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জাতিসংঘ সৃষ্টির একটি ইতিহাস রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে পৃথিবীজুড়ে দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটে গেছে। গত শতাব্দীর প্রথমদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৯) এবং ৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'লীগ অব নেশন্স' সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু 'লীগ অব নেশন্স'-এর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে বিশ্বশান্তি বিধানে তা ব্যর্থ হয়। ১৯৩৯ সালে পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা পৃথিবীকে গ্রাস করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত ও আহত, গৃহহারা, পঙ্গুত্ব বরণ করে। প্রতিটি দেশ হারায় তাদের কর্মক্ষম যুব সম্প্রদায়কে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ব বিবেককে ভীষণ আতঙ্কিত করে তোলে এবং নাড়া দেয়। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য আর একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এরপর ১৯৪৩ সালে তেহরানে ও মস্কোতে ৪টি প্রধান শক্তির মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিবৃন্দ সম্মিলিত জাতিসংঘ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে। এজন্য প্রতিবছর ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস পালন করা হয়।