1 Answers
মৃত্যুর পর থেকেই আখিরাতের জীবন শুরু হয়। সে জীবনের শুরু আছে, শেষ নেই। সে জীবন অনন্তকালের। মানুষ ইহজীবনে যে যেমন কাজ করবে, পরকালে সে তেমন ফল ভোগ করবে।
আরবি প্রবাদে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে - الدُّنْيَاءُ مَزْرَعَةُ الْآخِرَةِ
অর্থ: "দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।”
অর্থাৎ, ইহকালে ভালো কাজ করলে পরকালে পুরস্কার পাবে, আর মন্দকাজ করলে শাস্তি পাবে।
আলোচ্য উদ্দীপকে নাফিস নামায আদায়ে উদাসীনতা দেখালে শফিক তাকে উপদেশ দেয়। এক পর্যায়ে শফিক নাফিসকে এ হাদিসটির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আলোচ্য ক্ষেত্রে বা অনুরূপ ক্ষেত্রে এ হাদিসটির তাৎপর্য অপরিসীম। প্রশ্নে উল্লিখিত হাদিসটি আমাদের ইহজীবনের আমল সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। কারণ প্রবাদটি আমাদের বুঝতে শেখায় যে, আমাদের মন্দকাজের জন্য আখিরাতে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আখিরাতে শাস্তির ভয়ে আমরা মন্দকাজ থেকে বিরত থাকি আর পুরস্কারের আশায় ভালো কাজে আগ্রহী হই। আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নিয়মিত নামায, রোযা ইত্যাদি আবশ্যকীয় ইবাদত-বন্দেগি পালন করি। উল্লিখিত প্রবাদটি উদ্দীপকের চরিত্র নাফিসকেও আখিরাতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেবে এবং নিয়মিত নামায আদায়ে উৎসাহী করে তুলবে। অর্থাৎ প্রবাদটি শোনার পর নাফিসের মনে এ উপলব্ধি জাগ্রত হবে যে, ইহকালে ভালো কাজ করলে সে পুরস্কার পাবে, আর মন্দকাজ করলে শাস্তি পাবে। এ উপলব্ধি থেকে নাফিস নামাযে নিয়মিত হবে বলে আশা করা যায়। অতএব, আমাদের ব্যবহারিক জীবনে "দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।” প্রবাদটির তাৎপর্য অপরিসীম।