1 Answers

উদ্দীপকের আয়াতটি হলো- "নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।" আয়াতটির তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো-

আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালার নিকট বান্দার আনুগত্য, প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো সালাত। সালাতের মাধ্যমেই আল্লাহর নিকট বান্দার চরম আনুগত্যের অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। সালাত মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে। আল্লাহ বলেন-

إِنَّ الصَّلُوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ 

অর্থ : "নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-আনকাবুত : ৪৫)

পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের তাহমিনা রীতিমত সালাত ও সাওম পালনের পরও পর্দা লঙ্ঘন করছে, অশ্লীলতায় লিপ্ত হচ্ছে, গিবত, হিংসার মতো মন্দকাজও করছে। কাজেই প্রশ্ন থেকে যায়, তাহমিনার সালাত তো তাকে অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখছে না! এর কারণ কী? তাহমিনা সালাত আদায় করছে কিন্তু সালাতের শিক্ষা ও বিধান মেনে চলছে না, আন্তরিকতার সাথে মনোযোগ সহকারে সালাত আদায় করছে না। সালাতে সে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছে, তাঁর আনুগত্যের ঘোষণা দিচ্ছে, তাঁর বিধানসমূহ মেনে চলার শপথ করছে কিন্তু বাস্তবে করছে বিপরীত আচরণ। ফলে তাহমিনার সালাত হচ্ছে নিছক আনুষ্ঠানিকতা ও কায়িক পরিশ্রম। অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, অবহেলা ও সালাতের মূল শিক্ষা ধারণ করতে না পারার কারণে সালাত ও তার কাজে ও বিশ্বাসে কোনো প্রভাব বিস্তার করছে না।

সে যদি বুঝে সালাত আদায় করত এবং সালাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে যে শপথ করছে, প্রতিশ্রুতি প্রদান করছে তা পালনে সচেষ্ট হতো তাহলে সালাত তাকে অবশ্যই অশ্লীল ও মন্দকাজসমূহ থেকে বিরত রাখত। কাজেই শুধু সালাত আদায় করলেই হবে না, মনোযোগ সহকারে আন্তরিকতার সাথে সাথে সালাতের বিধান মেনে সালাত আদায় করতে হবে। অন্যথায় সালাতের উপকারিতা পাওয়া যাবে না।

5 views

Related Questions