1 Answers
বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে ধর্মের লক্ষণসমূহের গুরুত্ব ও প্রভাব অপরিসীম।
পাঠ্যপুস্তকে আমরা ধর্মের চারটি বিশেষ লক্ষণ এবং দশটি বাহ্য লক্ষণের কথা জানতে পারি। বর্তমান সমাজে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে ধর্মের লক্ষণসমূহকে নিজের জীবনে ধারণ করে নিয়ে চলতে হবে। এসব লক্ষণ মেনে চললে মানুষের মাঝে জেগে ওঠে মানসিকতা ও পবিত্রতার এক বিশুদ্ধ কল্যাণ অনুভূতি। এ কল্যাণবোধই ধর্ম। মনুসংহিতায় বেদ, স্মৃতি, সদাচার এবং বিবেকের বাণী এ চারটিকে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বলা হয়েছে। বেদে বিশ্বাস রেখে স্মৃতিশাস্ত্রের অনুশাসন মেনে এবং মহাপুরুষদের আচরিত কার্যক্রম তথা সদাচার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনে চলতে হয়। আর এতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তখন নিজের বিবেকের দ্বারা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কাজে লাগাতে হয় নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ কর্তব্য-অকর্তব্যের জ্ঞানকে। মনুসংহিতায় ধর্মের আরও দশটি বাহ্য লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়সংযম, শুদ্ধবুদ্ধি, জ্ঞান, সত্য এবং ক্রোধহীনতা হলো ধর্মের বাহ্য লক্ষণ। এসব লক্ষণ অনুসরণপূর্বক জীবন পরিচালনা করলে মানবের কল্যাণ হবে এবং নৈতিক উন্নতি হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সকলকেই এসব লক্ষণ জীবনে ধারণ করে চলতে হবে। তাই বলা যায়, বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে ধর্মের লক্ষণসমূহের গুরুত্ব ও প্রভাব অপরিসীম।