1 Answers

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও ধর্মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মাদক গ্রহণ করা গুরুতর পাপ। পরিবারের পাশাপাশি সমাজকেও এ অন্যায় কাজ প্রতিহত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। উদ্দীপকের অভিষেক মেধাবী ছাত্র। কিন্তু সঙ্গদোষে সে এখন গোপনে মাদক গ্রহণ করছে। তার এরূপ অধঃপতন রোধে পরিবার ও সমাজকে দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে। পরিবারই সমাজের প্রথম স্তর। পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ গোটা পরিবারের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। পরিবারের সকল সদস্যকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করছেন। সুতরাং এ দেহ ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের মন্দির। তাকে কোনোভাবেই অপবিত্র করা চলবে না। দ্বিতীয়ত, হিন্দুধর্ম অনুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপসমূহের অন্যতম। কেবল মাদকাসক্তই পাপী নন, যারা তার সঙ্গ দেন, তারাও পাপী কারণ মাদকাসক্তের পাপ তাঁদেরও স্পর্শ করে। মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনাও একটি পারিবারিক কর্তব্য। সন্তানদের গড়ে তোলা পিতা-মাতার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। তাই লক্ষ রাখা প্রয়োজন সন্তানেরা কেমন করে তাদের দৈনন্দিন জীবনটা অতিবাহিত করছে। সন্তানদের কেবল শাসন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উদ্বুদ্ধ করতে হবে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে। পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জীবন হবে পবিত্রতার আলোকে উদ্ভাসিত। তবে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে কেবল শাসনের আকারে নয়, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে- 'আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়'। পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি থেকে আমরা এমন শিক্ষা পেতে চাই, যা পরিবারের সকল সদস্যকে ধূমপান ও মাদকগ্রহণের মতো অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে। পরিবারের সবাই যেন অঙ্গীকার করে-

"ধূমপান মাদকগ্রহণ অধর্মের পথ,
চালাব না সে পাপপথে আমার জীবনরথ।'

উদ্দীপকের অভিষেকের জীবনেও উপরিউক্ত ধারণার আলোকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

4 views

Related Questions