1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সভ্যতার অর্থাৎ মিশরীয় সভ্যতার অধিবাসীদের প্রায় সব কর্মকাণ্ডেই ধর্মের প্রভাব ছিল।
বিশ্বের প্রাচীনতম ও সমৃদ্ধ সভ্যতাগুলোর অন্যতম মিশরীয় সভ্যতা। এ সভ্যতার অধিবাসীদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল এবং তারা ধর্মীয় নিয়ম- কানুন একনিষ্ঠভাবে মেনে চলত। প্রাচীন মিশরীয়দের মতো বিশ্বের অন্য কোনো জাতি সম্ভবত জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে এতটা ধর্মীয় নিয়ম- কানুন, অনুশাসন দ্বারা প্রভাবিত ছিল না।
বিশ্বসভ্যতায় প্রাচীন মিশরীয়দের অবদান ব্যাপক। ভাস্কর্য ও স্থাপত্যশিল্প, জ্যোতির্বিদ্যাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, ধর্মীয় চিন্তা ইত্যাদিসহ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। তবে প্রায় সব কর্মকাণ্ডই তাদের ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত ছিল। প্রাচীন মিশরীয়দের ভাস্কর্যগুলোতে ধর্মীয় ভাবধারা ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রভাব ছিল। বৈচিত্র্য এবং অনন্যতার জন্য সুপরিচিত বিশাল আকারের মূর্তিগুলো ভাস্কর্য শিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রমাণ বহন করে। মিশরীয়দের বিজ্ঞানচর্চার মধ্যেও ধর্মীয় প্রভাব বিদ্যমান। মূলত ধর্মের কারণেই তারা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল। তারা পরলোকে বিশ্বাস করত এবং মনে করত ফারাওরা পরবর্তী জন্মে আবার রাজা হবে। এই বিশ্বাস থেকেই তারা মৃত ফারাওদের দেহ অবিকৃত রাখতে মমি করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। মিশরীয়রা যেভাবে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মৃতদেহকে পচন থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাছে এক বিস্ময়। তাদের চিত্রশিল্পও গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। মিশরীয়রা সমাধি আর মন্দিরের দেয়াল সাজাতে গিয়ে চিত্রশিল্পের সূচনা করে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, মিশরীয় সভ্যতার মানুষেরা ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে প্রায় সকল কর্মকাণ্ড সম্পাদন করত।