1 Answers

'জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগই হলো যোগসাধনা' কথাটি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।

দেহকে সুস্থ ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ধর্মসাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। যোেগ দ্বারা পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে, যার ফলে শরীর সুস্থ, হালকা এবং স্ফূর্তিদায়ক হয়ে ওঠে। যোগ দ্বারা ইন্দ্রিয় এবং মনের নিগ্রহ হয়, যম-নিয়মাদি অষ্টাঙ্গ যোগের অভ্যাসের দ্বারা সাধক অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে নিজের দিব্য স্বরূপ জ্যোতির্ময়, আনন্দময়, শান্তিময়, পরম চৈতন্য আত্মা এবং পরমাত্মা পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়ে উঠেন। ব্যাসদেব বলেছেন, 'যোগই হলো এক অর্থে সমাধি।' পুরাকালে মুনিঋষিগণ যোগসাধনার বলেই শরীরকে সুস্থ সবল রাখতেন। যোগাসনের মাধ্যমে তাঁরা নিয়োগ থাকতেন ও ধ্যানে, তপ-জপে এবং প্রাণায়ামে নিজেদের দেহ সুস্থ-সবল রাখতেন ও দুশ্চিন্তাহীন মনের অধিকারী হতেন। ডক্টর সম্পূর্ণানন্দ বলেছেন, 'যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু।' যা চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায়। যোগীদের মধ্যে কেউ কেউ যোগসাধনায় কেবল যোগ ঐশ্বর্য লাভ করেই তৃপ্ত হন; আবার কেউ কেউ কঠোর তপস্যায় মায়াপাশ ছিন্ন করে পুনরায় যোগশক্তির মাধ্যমে বিশ্বজনের হিতে সাধনে ব্রতী হন। তাঁরা আত্মসমাহিত হয়ে মোক্ষলাভ করেন। যোগসাধনাবলে এ আত্মসমাধি ও যোগধারণার সূক্ষ্ম নিদর্শন সম্বন্ধে মহাপ্রাজ্ঞ ভীস্ম বলেছেন, ধনুর্ধারী যোদ্ধারা যেমন অপ্রমত্ত সমাহিত চিত্তে লক্ষ্যভেদ করে তেমনি যোগীরা অনন্যমনে একনিষ্ঠ সাধনায় মোক্ষলাভ করেন। যোগতত্ত্ববিদ মহাত্মারা একাগ্রচিত্তে সংসারের মায়াতরঙ্গ উত্তীর্ণ হয়ে জীবাত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে এক করে দুর্লভ ব্রহ্মপদ লাভ করেন। যে যোগী অহিংসাব্রত পরায়ণ হয়ে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ করতে পারেন তিনি যোগবলে মুক্তি লাভ করতে পারেন। তাই একথা আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগই হলো যোগসাধনা।

4 views

Related Questions