1 Answers
জীবনে সবকিছুর সফলতার পূর্বশর্ত হচ্ছে শরীর ও মন সুস্থ রাখা যা অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলনের মাধ্যমে সম্ভব।
অষ্টাঙ্গযোগ পালন না করে কোনো ব্যক্তিই সফল হতে পারে না। এই অষ্টাঙ্গযোগ কেবল যোগীদের জন্যই নয় বরং সবার জন্যই পালন করা অনিবার্য। যম এবং নিয়ম হচ্ছে অষ্টাঙ্গযোগের আধার। যম আর নিয়মে সাধকের ভাব আর আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়, জগতের অন্যসব মানুষের সঙ্গে তাঁর একটা ঐকতান সৃষ্টি হয়। আসনে দেহ ও মন সুস্থ, সবল ও সতেজ হয়, তখন প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর একটা ঐকতান সৃষ্টি হয়। শেষে তাঁর দেহসচেতনতা লুপ্ত হয়ে যায়। দেহকে তিনি জয় করে আত্মার বাহন হিসেবে প্রস্তুত করেন। প্রাণায়াম ও প্রত্যাহার সাধকের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রিত করে তাঁর মনকে বশে আনে। তাতে তাঁর ইন্দ্রিয়সমূহ বৈষয়িক আকাঙ্ক্ষার দাসত্ববন্ধন থেকে মুক্ত হয়। ধারণা, ধ্যান ও সমাধি সাধককে তাঁর আত্মার অন্তরতম প্রদেশে নিয়ে যায়। সাধক তখন ঈশ্বরানুসন্ধানে স্বর্গের দিকে তাকান না। তখন তাঁর উপলব্ধি হয় ঈশ্বর আছেন তাঁরই অন্তরে অন্তরাত্মা নামে।
অষ্টাঙ্গযোগ ধর্ম, আধ্যাত্ম, মানবতা এবং বিজ্ঞানের প্রতিটা ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রয়োজনীয় রূপে প্রমাণিত করেছে। এই পৃথিবী থেকে খুন, সংঘর্ষ যদি কোনো উপায়ে বন্ধ করতে হয়, তাহলে সেটা অষ্টাঙ্গযোগের মাধ্যমেই সম্ভব। যদি পৃথিবীর সব লোক বাস্তবে এই ব্যাপারটা নিয়ে একমত হয় যে, গোটা বিশ্বে শান্তি স্থাপিত হওয়া উচিত, তাহলে সেটার একমাত্র সমাধানই হচ্ছে অষ্টাঙ্গযোগ পালন। অষ্টাঙ্গযোগ দ্বারাই ব্যক্তিগত এবং সামাজিক একতা, শারীরিক সুস্থতা, বৌদ্ধিক জাগরণ, মানসিক শান্তি এবং আত্মিক আনন্দের অনুভূতি লাভ হতে পারে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে, ইহজাগতিক ও পারলৌকিক যেকোনো ক্ষেত্রে সফলতায় অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলন একান্ত প্রয়োজন।