1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত বনাঞ্চলের মধ্যে মিলনের এলাকার বনাঞ্চল হলো বরেন্দ্র অঞ্চলের বনভূমি এবং জামানের এলাকার বনটি হলো স্রোতজ বা গরান বনভূমি।

মিলনের বাড়ি রংপুরে। জলবায়ু ও মাটির ভিন্নতার কারণে ক্রান্তীয় পাতাঝরা বা পত্রপতনশীল অরণ্যের বৃহত্তর রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল অংশের নাম হলো বরেন্দ্র বনভূমি। আবার, জামানের বাড়ি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং সেখানের বনভূমিতে ধুন্দল, কেওড়া, বায়েন ইত্যাদি গাছ জন্মে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে স্যাঁতসেঁতে লোনা পানিতে জন্ম নেওয়া এসব গাছের বনাঞ্চলকে স্রোেতজ (ম্যানগ্রোভ) বা গরান বনভূমি বলা হয়। নিজ এলাকা ও জামানের এলাকার বনাঞ্চলের মধ্যে তুলনা করে মিলন মনে করেছে যে, তার এলাকার বন অর্থাৎ বরেন্দ্র বনাঞ্চল জামানের এলাকার বন তথা স্রোতজ বনভূমি থেকে ভিন্ন। বরেন্দ্র অঞ্চলের গাছগুলো হচ্ছে শাল, গজারি, কড়ই, নিম, হিজল, শিরীষ, হরীতকী, কাঁঠাল ইত্যাদি। অপরদিকে ম্যানগ্রোভ বা গরান বনভূমির গাছ হলো- সুন্দরি, গেওয়া, পশুর, ধুন্দল, কেওড়া, বাইন, গরান, গোলপাতা ইত্যাদি। বরেন্দ্র বনভূমির প্রায় সব গাছেরই শীতকালে পাতা সম্পূর্ণভাবে ঝরে পড়ে। কিন্তু ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমির বৃক্ষগুলোর এরূপ বৈশিষ্ট্য ততটা লক্ষণীয় নয়। গরান বনভূমির গাছগুলো স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ও লোনা পানিতে টিকে থাকতে সক্ষম হলেও বরেন্দ্র অঞ্চলের গাছগুলোর এ ধরনের সক্ষমতা নেই।

অর্থাৎ, আলোচ্য উভয় বনাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য স্বতন্ত্র ও পরস্পরের চেয়ে ভিন্ন  সুতরাং মিলনের মন্তব্যটি যথার্থ।

5 views

Related Questions