1 Answers

নৌকায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্তটি শরিয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ইজমা হচ্ছে- ইসলামি চিন্তাবিদদের ঐসব সিদ্ধান্ত, যেসব বিষয় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইসলামের মূল গঠনতান্ত্রিক আইন অর্থাৎ, খলিফা নির্বাচন কুরআন বা হাদিসে কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। কিন্তু তা ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমান আলিমগণের ঐকমত্য (ইজমা)- এরই ফলশ্রুতি। সার্বিকভাবে ইজমা আইনের তাত্ত্বিক সুবিবেচনায় শেষ পরীক্ষা। আলিমগণের ব্যক্তিগত মতের বিভিন্নতা সত্ত্বেও যখন তারা কোনো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়, তখন ইজমার সৃষ্টি হয়।

অনুরূপ বিষয় উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের বর্ণনা মতে – বন্যার পানিতে পটুয়াখালীর পাথরঘাটা অঞ্চলের ঘর-বাড়ি ও মসজিদগুলো ডুবে গেলে এলাকার কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রহমান ডিঙি নৌকায় সারিবদ্ধ বসে বসে জুমার নামাজ আদায়ের প্রস্তাব করলে অন্যান্য মসজিদের ইমামগণ বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে মেনে নেন এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক নৌকায় জুমার নামাজ আদায় করেন। অর্থাৎ ইজমা সংঘটিত হওয়ার জন্য যেমন সর্বসম্মতি হওয়া আবশ্যক, তেমনি উক্ত ঘটনায় ইমামগণ সর্বসম্মতি প্রদান করেছেন। তাই এখানে ইজমা সংঘটিত হয়েছে। ইজমার বৈধতা, দৃষ্টান্ত ও আদর্শ মহানবি (স.)-ই প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়লা বলেন, "আর তাদের কাজকর্ম সম্পাদিত হয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে।” (সূরা আশ-শুরা: ৩৮) তাছাড়া নবি (স.) বলেছেন, মুসলমানগণ যা ভালো মনে করে তা আল্লাহর নিকটও ভালো। (তাবারানি) তিনি আরও বলেছেন, "আমার উম্মত ভ্রষ্টতার উপর একমত হতে পারে না।" অন্যত্র তিনি বলেছেন, "আল্লাহর তায়ালা আমার উম্মতকে নিশ্চয় গোমরাহির ওপর জমায়েত করবেন না। আল্লাহর হাত (রহমত ও সাহায্য) দলবদ্ধ থাকার ওপর  রয়েছে, যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে) দোযখে যাবে।” (তিরমিযি) আর এজন্যই মাওলানা রহমান বলেছেন, "মহান আল্লাহ আমাদের এ কাজটি পছন্দ করবেন এবং আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করবেন।”

4 views

Related Questions