1 Answers

শ্যামল যে ধর্মীয় রীতিনীতিগুলো অনুশীলন করে তা অষ্টাঙ্গযোগের আওতাভুক্ত। আর মন ও শরীর ভালো থাকার ক্ষেত্রে অষ্টাঙ্গযোগের প্রভাব অপরিসীম।

অষ্টাঙ্গযোগ অনুসরণ ও অনুশীলনে মানুষের অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়। প্রমত্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে, খাল খনন করে যখন তাকে সঠিকভাবে বশে আনা হয় তখন এক বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়। সেই জলাধারের জলে ফসল ফলে, বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, মানুষের জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। ঠিক তেমনি অষ্টাঙ্গযোগ পালন করে অশান্ত মনকে বশে আনতে পারা যায় বিধায় শান্তির পারাবার সৃষ্টি হয়, আত্মোন্নয়নে অপরিমেয় শক্তি লাভ করা যায়। অষ্টাঙ্গযোগ পালন না করে কোনো ব্যক্তিই যোগী হতে পারে না। যম এবং নিয়ম হচ্ছে অষ্টাঙ্গযোগের আধার। যম আর নিয়মে সাধকের ভাব আর আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়, জগতের অন্যসব মানুষের সঙ্গে তাঁর একটা ঐক্যতান সৃষ্টি হয়। আসনে দেহ ও মন সুস্থ সবল ও সতেজ হয়, তখন প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর একটা ঐক্যতান সৃষ্টি হয়। শেষে তাঁর দেহ সচেতনতা লুপ্ত হয়ে যায়। দেহকে তিনি জয় করে আত্মার বাহন হিসেবে প্রস্তুত করেন। প্রাণায়াম ও প্রত্যাহার সাধকের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়মিত করে তাঁর মনকে বশে আনে। তাতে তাঁর ইন্দ্রিয়সমূহ বৈষয়িক আকাঙ্ক্ষার দাসত্ব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়। ফলে শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি মনও ভালো থাকার ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি অর্থাৎ অষ্টাঙ্গযোগের আবশ্যকতা রয়েছে।

4 views

Related Questions