1 Answers
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গ্রন্থটি 'মিলিন্দ প্রশ্ন' পড়ে কর্মবাদ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যাবে।
মায়-বর্ণে, ভোগ-ঐশ্বর্যে এবং জ্ঞান-গরিমায় মানুষের মধ্যে পার্থক্য হয়েছে যার অন্যতম কারণ কর্ম। জীবমাত্রই নিজ নিজ কর্মের অধীন এবং কর্মই প্রাণীগণকে হীন-উত্তম বা উঁচু-নীচু বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে। থিবীতে সকল মানুষের আচার-আচরণ যেমন এক রকম নয় তেমনি মবার স্বভাব-চরিত্র একই রকম নয়। 'মিলিন্দ প্রশ্ন' নামক গ্রন্থে ভিক্ষু নাগসেন ও গ্রিকরাজ মিলিন্দের কথোপকথনে নাগসেন স্থবির বলেছিলেন- 'সকল মানুষ এক রকম না হওয়ার কারণ হলো তাদের কৃতকর্ম। মানুষের কর্মফলে পার্থক্য আছে বলেই মানুষের মধ্যে নানারকম পার্থক্য লক্ষ করা যায়।' তিনি আরো বলেন- 'সকল বৃক্ষের ফল সমান হয় না। কিছু টক, কিছু লবণাক্ত, কিছু মধুর রসযুক্ত। এগুলো বীজের নানাত্ব কারণেই হয়।' এভাবে কর্মের নানাত্ব হেতু সকল মানুষ সমান হয় না। কারণ প্রাণী মাত্রই কর্মের অধীন। এ রকম ভিন্নতার অন্যতম কারণ হলো কর্ম।
কর্মই প্রাণীকে নানাভাবে বিভাজন করে। জীবের সুখ এবং দুঃখের দাতা কেউ নয়। এগুলো কর্মেরই প্রতিক্রিয়া। বুদ্ধ সুত্তনিপাত নামক গ্রন্থে বলেন-
ন জচ্চা ব্রাহ্মণো হোতি, ন জচ্চা হোতি অব্রাহ্মণো
কম্মুনা ব্রাহ্মণো হোতি, কমুনা হোতি অব্রাহ্মণো।
অর্থাৎ জন্ম দ্বারা কেউ ব্রাহ্মণ হয় না, জন্ম দ্বারা কেউ অব্রাহ্মণ হয় না,
কর্ম দ্বারা ব্রাহ্মণ হয় এবং কর্ম দ্বারা অব্রাহ্মণ হয়।