1 Answers
জ্যোতির্ময়ের বিশ্বাস অনেক কষ্ট করে আদর-যত্ন দিয়ে তার একমাত্র কন্যা অর্পিতাকে বড় করেছেন। পৃথিবীতে পিতামাতার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ তার সন্তান। বাবা-মা অনেক দুঃখ-কষ্ট স্বীকার করে সন্তানকে মানুষ করে। অনেক সময় পিতা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ায়। সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন থাকে। জ্যোতির্ময় তার কলিজার সমান মেয়ে সম্প্রদান করতে গিয়ে মেয়ের ছোট থেকে বড় বেলা পর্যন্ত সকল স্মৃতি চোখের পাতায় ভেসে ওঠে। সম্প্রদানের সময় অর্পিতাও তার স্বামীকে মুখোমুখি বসিয়ে জ্যোতির্ময় উত্তরমুখী হয়ে বসেন। পুত্তলি অঙ্কিত, আম্রপল্লবে সুশোভিত, গঙ্গাজলপূর্ণ একটা ঘটের উপর বরের চিৎ করা ডান হাতের উপর অর্পিতার ডান হাত রাখা হয়। তার উপর লাল গামছায় বাঁধা পাঁচটি ফল কুশপত্র আর ফুলের মালা দিয়ে বেঁধে দেয়। জ্যোতির্ময় দেবতার নাম উচ্চারণ করে এবং বয়স্করা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে কন্যাকে সম্প্রদান করেন। তিনি ভাবেন তার একমাত্র আদরের মেয়ে অন্যের ঘরে চলে যাচ্ছেন, নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছে। অজানা অচেনা পরিবেশে মেয়ে কীভাবে থাকবে। কোনো কষ্ট হবে কি না এসব কথা ভেবে জ্যোতির্ময় বিশ্বাসের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, কন্যাকে সম্প্রদায়ের সময় পৃথিবীর সব পিতার চোখে জল আসে।