1 Answers
(ii) নং উদ্দীপকের শ্লোকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আলোচ্য উদ্দীপকের শ্লোকটি হলো-
অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ।
অহমাদিশ্চ মধ্যঞ্জ ভূতানামন্ত এব চ।
এর সরলার্থ হলো : হে অর্জুন! আমি সকল প্রাণীর হৃদয়স্থিত আত্মা। আমি ভূত- সকলের আদি, মধ্য ও অন্ত।
শ্লোকটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো-
শ্লোকে আদি বলতে জীবজগতের উৎপত্তি, মধ্য বলতে তাঁদের স্থিতি এবং অন্ত বলতে তাদের মৃত্যু বোঝানো হয়েছে। ঈশ্বরই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। পৃথিবীর সকল সৃষ্টির মূলেও রয়েছেন তিনি। ঈশ্বর জীবের সকল সৃষ্টি ও সৌন্দর্যের মধ্যে নিরাকাররূপে অবস্থান করেন। তাই ঈশ্বরকে জীবজ্ঞানে সেবা করা উচিত। আমাদের এ বৈচিত্র্যময় পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ঈশ্বর। তিনি সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁকে বলা হয় পরমাত্মা। তিনি এক ও অদ্বিতীয় হলেও তাঁর সৃষ্ট সব জীবের মধ্যে তিনি আত্মারূপে অবস্থান করেন। তখন তাকে বলা হয় জীবাত্মা। এজন্য জীবসেবা করলে ঈশ্বর সেবা করা হয়। ঈশ্বর সবার মাঝেই বিরাজমান। কবি রজনীকান্ত সেনের ভাষায়-
আছ অনল - অনিলে চির নভোনীলে
ভূধর সলিল গহনে
আছ বিটপী লতায় জলদের গায়
শশী তারকায় তপনে।
অর্থাৎ ঈশ্বর আছেন সবখানে। সকল জীব ঈশ্বরেরই এক প্রত্যক্ষ প্রকাশ। এ কারণেই হিন্দুধর্মে বলা হয় যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ। তাই কোনো জীবকেই তুচ্ছ ভাবার বা অবহেলা করার কোনো কারণ নেই। হিন্দুধর্ম মানুষের মঙ্গল ও জীবজগতের কল্যাণে নিবেদিত। উক্ত শ্লোকটিতে এ বিষয়ের মাহাত্ম্যই বর্ণিত হয়েছে।