1 Answers
"নিয়তি' গল্পের অন্তর্নিহিত ভাব উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
শৈশবের স্মৃতি মানুষকে তাড়িত করে। শৈশবের আনন্দঘন মুহূর্তের পাশাপাশি কিছু বেদনার ঘটনাও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলোও স্মৃতির পটে ভেসে উঠেছে।
'নিয়তি' গল্পে লেখক তাঁর শৈশবের স্মৃতির কথা স্মরণ করেছেন। ছেলেবেলায় বাবার চাকরিসূত্রে লেখকের পরিবারের সবাই কিছুদিন জগদলের একটি পরিত্যক্ত জমিদারবাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে জমিদারবাড়ির কুকুরটি লেখকের ছোট ভাইকে সাপের ছোবল থেকে রক্ষা করে। পরে কুকুরটি সাপের কামড়ের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। কুকুরটির যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে লেখকের বাবা কুকুরটিকে গুলি করে মেরে ফেলতে বাধ্য হন। কুকুরের এই নিয়তি লেখকের হৃদয়ে বেদনার সঞ্চার করে, যা 'নিয়তি' গল্পে বর্ণনা করা হয়েছে। আর উদ্দীপকে রয়েছে জমিদার রায় বল্লভ রায়ের জমিদার বাড়ির বর্ণনা। সেখানে জমিদার বাড়ির জৌলুসের কথা বলা হয়েছে, যা গল্পের বাড়িটি সম্পর্কে লেখকের মন্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে 'নিয়তি' গল্পে বর্ণিত পুরনো জমিদার বাড়ির কথাই ফুটে উঠেছে মাত্র। আর 'নিয়তি' গল্পে উক্ত বিষয়টি ছাড়াও লেখক তাঁর শৈশবের আনন্দময় সময়ের কথা এবং বিস্ময়কর কিছু ঘটনা বর্ণনা করেছেন। গল্পে পশুর প্রতি সহানুভূতির দিকটিও প্রকাশ পেয়েছে। এই দিক থেকে 'নিয়তি' গল্পের অন্তর্নিহিত ভাব উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।