1 Answers

অসিত অশৌচের জন্য যথাযথভাবে নিয়ম পালন করেছিল। 'অশৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে আমাদের অশৌচ হয়। কারণ প্রিয়জনের' মৃত্যুতে আমাদের মন শোকে আচ্ছন্ন হয়। আমাদের চিত্ত সাধনভজনের উপযোগী থাকে না। তখন আমরা অশুচি হই। মাতা-পিতার মৃত্যুর পর অশৌচকালে হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয়। এসময় কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়। উদ্দীপকের অসিতও একইভাবে অশৌচের নিয়ম পালন করেছিল। অশৌচকালে উঠানে একটি তুলসী গাছ রোপণ করে সেখানে প্রতিদিন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জল ও দুগ্ধ প্রদান করতে হয়। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর চতুর্থ দিনে ও দশম দিনে পিন্ড দান করতে হয়। এ পিন্ডকে বলা হয় পূরকপিন্ড। পূরক পিন্ড দিতে হয় মোট দশটি। অশৌচান্তে মস্তক মুণ্ডন করে নববস্ত্র পরিধান করতে হয়। অশৌচান্তের দ্বিতীয় দিবসে হয় শ্রাদ্ধ। অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌচ পালনের দিবস সংখ্যা বেশি। ব্রাহ্মণের দশদিন, ক্ষত্রিয়ের বারদিন, বৈশ্যের পনেরদিন এবং শূদ্রের ত্রিশদিন অশৌচ পালনের বিধান আছে। তবে বর্তমানে প্রায় সকল বর্ণের বা গোত্রের মানুষ দশদিন অশৌচ পালন করে একাদশ কিংবা ত্রয়োদশ দিবসে, কেউ কেউ পনের দিন অশৌচ পালন করে ষোড়শ দিবসে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে থাকেন।

5 views

Related Questions