1 Answers
অশৌচের প্রকারসহ শ্রীকান্ত পণ্ডিতের বর্ণনাকৃত অশৌচের গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হলো-
জননাশৌচ ও মরণাশৌচ ভেদে অশৌচ দুই প্রকার। কেউ জন্মগ্রহণ করলে যে অশৌচ হয় তার নাম জননাশৌচ এবং মৃত্যুর পর যে অশৌচ হয় তার নাম মরণাশৌচ। সপ্তম পুরুষ পর্যন্ত জ্ঞাতিত্ব বর্তমান থাকে। সুতরাং সপ্তম পুরুষ পর্যন্তই জনশৌচ ও মরণাশৌচ পালন করার নিয়ম আছে। অশৌচ পালন যে শুধুমাত্র শাস্ত্রীয় বিধিবিধান তা-ই নয়, সামাজিক দিক থেকেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। পিতামাতার জীবদ্দশায় সারাদিন কর্মক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে এলে তাঁদের স্পর্শ আমাদের স্বর্গসুখ দেয়। হঠাৎ করে তাঁদের চির অনুপস্থিতি সন্তানকে বিচলিত করে তোলে। এমনকি নিকট আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুও আমাদের বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু বিচলিত মনে ঈশ্বরকে সবিনয়ে পূর্ণ একাগ্রতা আসে না। এজন্য চাই শান্ত মন। তাই সময়ের প্রয়োজন। আর এ প্রস্তুতির জন্য অশৌচ পালন কর্তব্য। এতে মন ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং মনে প্রশান্তি ফিরে আসে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির পরিবার, জ্ঞাতিবর্গ অশৌচ পালন করে তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।