1 Answers
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুমানিক রাত ১টা ৩০ মিনিটে (মধ্যরাতে) বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ রাত ১২টার পর) বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এ ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একই বেতার কেন্দ্র হতে সামরিক অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার সমর্থনে বক্তব্য প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়। প্রবল আত্মবিশ্বাসে বাংলার আপামর জনতা দেশকে স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে নানারূপে বিতর্ক ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। এ অবস্থায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ, দলিল পর্যালোচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে রায় দেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। অবশ্য বঙ্গবন্ধুই যে স্বাধীনতার ঘোষক, বাঙালি জাতির পিতা ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। এজন্য কোনো রায়ের প্রয়োজন হয় না। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের টেপরেকর্ডারে বাজানো লাইনগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, এতে কোনো সন্দেহ নেই।