1 Answers
স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রাপ্তি ও সাফল্যের ক্ষেত্রে দৃশ্যকল্প- ২-এর উক্তিটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
দৃশ্যকল্প-২ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিটি তথা "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়"- উক্তিটির উল্লেখ রয়েছে। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পদার্পণ করেই বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন যে, 'বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, কারও প্রতি বৈরী আচরণ সমর্থন করবে না।' তাঁর এ বক্তব্যে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। আর বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানের আশা ব্যক্ত করায় শান্তিকামী দেশগুলো দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৪০টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করাসহ নানাভাবে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে। অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে খাদ্যদ্রব্য ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। এভাবে সদ্য স্বাধীন একটি দেশের বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পাওয়া ও অন্যান্য দেশকে বন্ধুভাবাপন্ন করে পাশে পাওয়ার পিছনে নিঃসন্দেহে দেশের পররাষ্ট্রনীতির অবদান অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক বা স্বার্থকেন্দ্রিক হলে স্বীকৃতি ও অসংখ্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কোনোটাই এত দ্রুত সময়ে অর্জন করা সম্ভব হতো না। এই উন্মুক্ত, সরল ও উদার পররাষ্ট্র নীতির ফলেই বিশ্ব দরবারে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু থেকে অদ্যবধি সুন্দরভাবে প্রশংসিত হয়ে আসছে। তাই অনেক শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রও বাংলাদেশের বন্ধুতে পরিণত হয়ে এদেশের সাফল্যের অংশীদার হতে প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত বঙ্গবন্ধুর অমর বাণীটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।