1 Answers
দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত যুদ্ধের ক্ষেত্রে 'দক্ষতার চেয়ে কৌশলই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ'- উক্তিটি যথার্থ।
যুদ্ধ হলো সাধারণত বিবদমান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে শক্তিপরীক্ষার মুখোমুখি লড়াই। এতে সাফল্য লাভের জন্য দরকার যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা, উপযুক্ত দক্ষতা এবং কৌশল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বা দক্ষতার চেয়ে কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দক্ষতা যতই থাকুক কৌশল যথাযথ না হলে যুদ্ধে জয়লাভ করা অসম্ভব। যুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই যে পক্ষ রণাঙ্গনে যথাযথ কৌশল অবলম্বন করেছে তারাই জয়ী হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যথেষ্ট অস্ত্রশস্ত্র, রসদ বা জনবল না থাকলেও উপযুক্ত কৌশল ব্যবহার করেই যুদ্ধজয় করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনাকারী ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি এ অঞ্চল জয় করতে পেরেছিলেন তার সূক্ষ্ম কৌশলের কারণেই। বখতিয়ার খলজি সুরক্ষিত তেলিয়াগড়-শিকড়িগড় গিরিপথ এড়িয়ে অন্যপথে বাংলার দিকে অগ্রসর হন। অল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়েই তিনি বণিকের ছদ্মবেশে লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করেন। বৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন তাদের অশ্ব ব্যবসায়ী মনে করে নগরের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ দেন। কিন্তু বখতিয়ারের এ ক্ষুদ্র দলটি রাজপ্রাসাদের সম্মুখে এসেই আচমকা হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় লক্ষণ সেনের সৈন্যরা প্রাসাদ অরক্ষিত রেখে পালাতে থাকে। ফলে সহজেই বখতিয়ার নদীয়া জয় করে নেন। বখতিয়ারের এ জয়ের পেছনে মূল কারণ ছিল তার কৌশল। উদ্দীপকের রাজীবও টেলিভিশনে যুদ্ধের একটি ছবিতে দেখে প্রধান সেনাপতি কৌশলে যুদ্ধকে স্তিমিত করে দেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যুদ্ধজয়ের জন্য যথেষ্ট অস্ত্রসম্ভার, জনবল ও রসদের প্রয়োজন থাকলেও এগুলোর চেয়ে বেশি প্রয়োজন যথাযথ কৌশলের। তাই একথা যথার্থ যে, যুদ্ধের ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই কৌশল অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।