1 Answers
ধ্রুব ও নীলার বিবাহ গান্ধর্ব বিবাহের অন্তর্গত।
হিন্দুসমাজে বিবাহ হলো ধর্মীয় জীবনের চর্চা। স্ত্রী হচ্ছেন পুরুষের সহধর্মিণী। স্ত্রীকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্যই সম্পন্ন হয় না। বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং মান-সম্মান রক্ষার সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। উদ্দীপকের ধ্রুব ও নীলাও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে মালাবদল ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে। এ ধরনের বিবাহ ধরনগত দিক থেকে গান্ধর্ব বিবাহের পর্যায়ে পড়ে। স্মৃতিশাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে। যথা- ব্রাহ্ম, দৈব, আর্ষ, প্রাজাপত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস এবং পৈশাচ। এ আট প্রকার বিবাহের মধ্যে ব্রাহ্ম, দৈব, আর্ষ ও প্রাজাপাত্য উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সমাজে ব্রাহ্মবিবাহ প্রচলিত। কন্যাকে বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে এবং অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে আমন্ত্রণ করে কন্যা দান করাকে বলা হয় ব্রাহ্মবিবাহ। সমাজে গান্ধর্ব বিবাহেরও প্রচলন আছে। নারী-পুরুষ পরস্পর শপথ করে মাল্যবিনিময়ের মাধ্যমে যে বিবাহ করে তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ। মহাভারতে দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ গান্ধর্ব বিবাহের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ধ্রুব ও নীলার বিবাহ গান্ধর্ব বিবাহের অন্তর্গত।