1 Answers
পাঠ্যের আলোকে উদ্দীপকের শিক্ষক অমল বাবুর উক্তিটি যথেষ্ট যৌক্তিক।
অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌচ পালনের দিবস সংখ্যা বেশি। ব্রাহ্মণদের দশদিন, ক্ষত্রিয়ের বারদিন, বৈশ্যের পনেরদিন এবং শূদ্রের ত্রিশদিন অশৌচ পালনের বিধান আছে। উদ্দীপকের শিক্ষক অমল বাবু এ বিষয়টিই কটাক্ষ করেছেন। পিতার মৃত্যুতে সুমিত চক্রবর্তী অশৌচ পালন করেছে দশদিন। কিন্তু মাতার মৃত্যুতে অবিনাশ সাহা পনেরো দিন যাবৎ অশৌচ পালন করছে। কিন্তু বর্ণভেদে অশৌচ পালনে পার্থক্য থাকা উচিত নয়। এ কারণেই শিক্ষক অমল বাবু অবিনাশকেও সুমিতের মতো দশদিন অশৌচ পালন করতে বললেন। তার এ ভাবনার নিঃসন্দেহে যুক্তি রয়েছে। হিন্দু সমাজে আচার-অনুষ্ঠান পালনে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য না রেখে একই প্রকার বিধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কেননা শ্রীমদ্ভগ্বদ্গীতায় বলা হয়েছে জন্মভেদে নয়, বরং কর্মভেদেই বর্ণবিভাজন হয়। অর্থাৎ যে যেরকম পেশায় নিয়োজিত তার বর্ণটি সে অনুসারে হয়। এ প্রসঙ্গে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন- 'চতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ- অর্থাৎ- গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে আমিই চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি। ব্রাহ্মণ সন্তান হলেই যে একজন ব্রাহ্মণ বলে গণ্য হবে, এমনটি নয়। সত্ত্বগুণ প্রভাবিত কোনো শূদ্রের সন্তানও ব্রাহ্মণ পদবাচ্য হতে পারেন। আবার কোনো ব্রাহ্মণ-সন্তান তমঃগুণে প্রভাবিত হলে সে শূদ্র বলে গণ্য হবেন। সুতরাং বলা যায়, জাতি বা বর্ণভেদ বংশগত নয়, গুণ ও কর্মগত। অশৌচ পালনের দিবস সংখ্যায় তারতম্য ও অনুষ্ঠানের ভিন্নতা যৌক্তিক নয়। আর সেজন্যই বর্তমানে প্রায় সকল বর্ণের মানুষ দশ দিন অশৌচ পালন করে একাদশ কিংবা ত্রয়োদশ দিবসে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করছেন। কিন্তু এটা স্বেচ্ছাকৃত। সকল বর্ণের জন্য অভিন্ন বিধান যৌক্তিক। তাই বলা যায়, শিক্ষক অমল বাবুর উক্তিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।