1 Answers

উদ্দীপকের বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই, অজয়বাবু ছোটবেলা থেকেই ছিলেন খুবই নম্র ও ভদ্র প্রকৃতির। সবসময় তিনি সৎভাবে থাকতে ও চলতে পছন্দ করতেন। গুরুজনদের দেখলেই সবসময় শ্রদ্ধায় মাথা নামাতেন কিন্তু আর্থিক অনটনে পড়ে পড়ালেখা বেশি করতে পারেনি। তারপর জীবন-জীবিকার তাগিদে টেক্সি চালিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করেন। একদিন টেক্সি চালানো শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ চোখ যায় টেক্সির পিছনের সিটের দিকে। দেখতে পান সিটের ওপর একটি কাগজের প্যাকেট পড়ে আছে। তিনি একটু বিড়ম্বনায় পড়ে বাসায় গিয়ে কাগজের প্যাকেটটি খুলে দেখতে পায় অনেক টাকা ও একটি মোবাইল নম্বর। দেরি না করে তিনি মোবাইল নম্বরে ফোন করে মালিককে তার প্যাকেট নিয়ে যেতে বলে। প্যাকেটের মালিক দেরি না করে তাড়াতাড়ি এসে তার প্যাকেট বুঝে নেয় এবং আবেগ আপ্লুত হয়ে আজয়বাবুকে জড়িয়ে ধরে। পাঠ্যপুস্তকে আমরা দেখতে পাই, গবির কাঠুরিয়া বনে বনে কাঠ কেটে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে যা পেতেন তা দিয়েই চাল-ডাল কিনে কোনোরকমে দিনাতিপাত করতেন। একদিন নদীর ওপরে একটি গাছের ডাল কাটতে গিয়ে তার কুঠারটি নদীতে পড়ে যায়। তখন কাঠুরিয়া তার সংসারের চাল-ডাল কেনার কথা চিন্তা করে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে। এমন সময় নদী থেকে জলদেবতা একটি সোনার কুঠার নিয়ে আসে এবং বলে এটি তার কুঠার কিনা। প্রত্যুত্তরে কাঠুরিয়া বলে এটি তার না। আবারও জলদেবতা একটি রুপার কুঠার নিয়ে আসে এবং বলে এটি তার কিনা। উত্তরে সে একই কথা বলে। সর্বশেষ জলদেবতা তার লোহার কুঠারটি নিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে এটিই তার কুঠার। পরে জলদেবতা কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়ে তাকে তিনটি কুঠারই দিয়ে দেন।

অজয় বাবু তার সততার জন্য অনেকগুলো টাকা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন। কাঠুরিয়াও তার সততার জন্য সোনা ও রূপার কুঠার ফিরিয়ে দিলেন। তারা উভয়ই সততার জন্য পুরস্কার পেলেন। তাই আমরা বলতে পারি, অজয়বাবু গরিব কাঠুরিয়ার সততাকেই অনুসরণ করেছেন।

5 views

Related Questions