1 Answers

উদ্দীপকে বাংলাদেশের যে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে তা হলো ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান।

ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন প্রতিহত করার জন্য ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় ঐক্যজোট এবং বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। এ দুই জোট সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনকে সফল করার লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি ঘোষণা করে। এ আন্দোলনে রাজনৈতিক দল ছাড়াও ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের শ্রেণি ও পেশার জনগণ অংশগ্রহণ করে। তাই এ আন্দোলন গণআন্দোলন থেকে ক্রমান্বয়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ১৯৮৭ সালে ৮ দল, ৭ দল ও ৫ দল জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে একমত পোষণ করে এবং সকল জোট ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করে। তিন জোটের হরতাল এবং 'ঢাকা অবরোধ' কর্মসূচির ফলে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক' স্লোগান লিখে ঢাকার জিপিও-এর নিকট জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এতে আন্দোলনকারী জনগণ ক্ষুব্ধ হয়। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর বিএমএ নেতা ডা. সামসুল আলম মিলন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চরম রূপ দেয়। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একটি অভিন্ন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হলে ১৯৯০-এর ৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। অতএব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনের কথাই বলা হয়েছে।

5 views

Related Questions