1 Answers
পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। পুরাতন বছরের জীর্ণক্লান্তি দূর করে নতুন বছরকে কাছে টেনে নেয়। বাংলার জনসমষ্টি অতীতের সুখ-দুঃখ ভুলে গিয়ে নতুনের আহ্বানে সাড়া দেয়।
আলোচ্য উদ্দীপকে কানন তার পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করে বাঙালি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুনের ডাকে সাড়া দেয়। পরিবারের সবাইকে সে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। ঢাকা শহর তার কাছে মনে হয় মানুষের মহামিলন মেলা। বৈশাখের সকালবেলায় রমনা উদ্যান ও এর চারপাশের উজ্জ্বল জনস্রোতে সৃষ্টি হয় জাতীয় বন্ধন। চারুকলার ছাত্রছাত্রীরা বর্ণাঢ্য শোভযাত্রা বের করে। সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কানন সারাদিন বন্ধুদের সাথে এ সকল স্থানে ঘুরে বেড়ায়। দুপুরে বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবার খায়। শুধু ঢাকা শহর নয় বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপিত হয়। এদিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও স্তরের মানুষ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক পরিধান করে। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে তরুণীরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, হাতে চুড়ি, খোপায় ফুল, গলায় ফুলের মালা এবং কপালে টিপ পরে। আর ছেলেরা পাঞ্জাবি ও পায়জামা পরে। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। কোনো কোনো স্থানে লোকজ অনুষ্ঠানেও আয়োজন করা হয়।
তাই বলা যায় যে, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে পহেলা বৈশাখ এক মহামিলন মেলা।