1 Answers

হিন্দুধর্মে মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য কতকগুলো আচার-আচারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার ধর্মশাস্ত্রে ঈশ্বর, দেব-দেবীর প্রশংসা করে কতকগুলো অবশ্য কর্তব্য অনুষ্ঠান পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ধর্মাচার এবং অনুষ্ঠান ধর্মানুষ্ঠান নামে পরিচিত। ধর্মাচারগুলোর মধ্যে রয়েছে সংক্রান্তি উৎসব, গৃহপ্রবেশ, অম্বুবাচী, জামাইষষ্ঠী, রাখীবন্ধন, ভাইফোটা, দীপাবলি, হাতেখড়ি, নবান্ন ইত্যাদি। আর ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দোলযাত্রা, রথযাত্রা, নামযজ্ঞ। এ সকল অনুষ্ঠান ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পূজাপার্বণের মাধ্যমে পালন করা হয়। মানবজীবনের কল্যাণ এবং মুক্তিলাভের উপায় হিসেবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করা হয়। তাই এগুলো ধর্মের অংশ। অপরদিকে, এসব আচার-অনুষ্ঠান শুধুমাত্র ধর্মের অংশ নয়। এগুলো সংস্কৃতিও বটে। কারণ এসকল অনুষ্ঠানে জাতি, বর্ণ, শ্রেণি, নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সকলের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এসব অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করে, মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি করে। মানুষ সকল ভেদাভেদ ভুলে যায়। এসব অনুষ্ঠান পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

তাই বলা যায়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আমাদের ধর্মের অংশ এবং সংস্কৃতির পরিচায়ক।

4 views

Related Questions