1 Answers
ত্রিদীপের শেষোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক কারণ জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্য দু'টিই প্রকাশ করে যে- কর্ণসুবর্ণ, সমতট ও পুণ্ড্রবর্ধনে বা উত্তরবঙ্গে প্রথম বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত হয় এবং এখানে তিন ধরনের বৌদ্ধমতবাদ প্রচলিত ছিল।
বাংলায় প্রথম কবে বৌদ্ধধর্ম প্রচার হয়েছিল তার সুস্পষ্ট তথ্য না থাকলেও জনশ্রুতি আছে বুদ্ধ কর্ণসুবর্ণ ও সমতটে সাতদিন করে এবং পুণ্ড্রবর্ধনে তিনমাস অবস্থান করে ধর্ম প্রচার করেন। আবার বংস সাহিত্যের তথ্য মতে অশোকের শাসনকালে পুণ্ড্রবর্ধনে বৌদ্ধধর্ম প্রচারিত হয়েছিল। বিখ্যাত বৌদ্ধ প্রত্নস্থল সাঁচীতে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় শতকের অনুশাসনেও পুণ্ড্রবর্ধনের দু'জন বৌদ্ধ দাতার নাম পাওয়া যায়।
চৈনিক পরিব্রাজক ফা-হিয়েন খ্রিষ্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকে প্রাচীন বাংলার তাম্রলিপ্তিতে ভ্রমণের সময় বাইশটি বিহারে বহু বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বসবাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং বাংলায় বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা ও গ্রন্থ অনুবাদ করতে আসেন। তার ভ্রমণ বিবরণীতে পুণ্ড্রবর্ধনে ২০টি সঙ্ঘারাম ও তিন হাজার ভিক্ষু, কর্ণসুবর্ণে ১০টি সঙ্ঘারাম ও এক হাজার ভিক্ষু, তাম্রলিপ্তিতে ১০টি সঙ্ঘারাম ও দুই হাজার ভিক্ষু এবং সমতটে ৩০টি সঙ্ঘারাম ও দুই হাজার ভিক্ষুর বসবাসের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দু'জনের ভ্রমণ বিবরণীতেই বৌদ্ধধর্মের তিনটি মতবাদ- হীনযান, মহাযান এবং তান্ত্রযান চর্চার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
মূলত খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত খড়গ, দেব, চন্দ্র এবং পাল বংশের মতো বৌদ্ধ রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায়ই সমগ্র বাংলায় এই তিন ধরনের বৌদ্ধ মতবাদ ব্যাপক প্রচার-প্রসার লাভ করে। আবার এসব তিন ধরনের প্রেরিত ধর্মদূত এবং দেশ-বিদেশেরয়া পন্ডিত ভিক্ষু ও রাজবংশের দের মাধম্যে কাশ্মীর, নেপাল, তিবাজ ধর্মের নমার, চীন, জাভা, পরিব্রাজ বালীসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের তিনটি মতবাদী, হীনযান, মহাযান এবং তান্ত্রযান প্রসার লাভ করে।