1 Answers
বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চায় উপরিউক্ত দ্বাদশ সংশোধনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি।
১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে নব্বইয়ের গণআন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী তিন জোটের অঙ্গীকার অনুযায়ী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পূর্বপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস হওয়ার পর হতে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংসদের ভিতরে বাইরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। সে সময় নির্বাচিত বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের পক্ষে থাকলেও জনমত ও বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ১৯৯১ সালের ১৪ এপ্রিল সংসদীয় সরকার প্রবর্তন করার দাবিতে সংসদে নোটিস প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়ী বিএনপি সংসদীয় সরকারের পক্ষে মত প্রদান করে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৯১ সালের ২ জুলাই সংবিধান সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। ৬ আগস্ট সংসদে এক হৃদ্যপূর্ণ পরিবেশে সংবিধানের 'দ্বাদশ সংশোধনী বিল' গৃহীত হয়। ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হয়।