1 Answers

ভারতবর্ষে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সনাতন তথা হিন্দুধর্মের বিকাশ শুরু হয়েছে। চিন্তাশীল মুনি-ঋষিগণ মানুষের কল্যাণ চিন্তায়, ধর্মীয় আচার-আচরণে এমনকি পারমার্থিক চিন্তায় নতুন নতুন ধর্মীয় ভাব প্রবর্তন করেছেন। বৈদিক যুগে ধর্ম-কর্ম পালিত হতো যজ্ঞকর্মরূপে। যজ্ঞক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তখন দেবতাদের আরাধনা করা হতো। যজ্ঞকর্মের ফলে স্বর্গপ্রাপ্তি হতো, কিন্তু মানুষের মুক্তিলাভ হতো না। তাই বেদের পরে উপনিষদের যুগে মুক্তির চিন্তা প্রাধান্য পায়। মানুষ মুক্তিলাভের জন্য এক ব্রহ্মের আরাধনা করতে থাকে। এ সময় সমাজ-সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণের প্রবণতা দেখা দেয়। কালক্রমে এ চিন্তার মধ্যেও মানুষ যেন সন্তুষ্ট হতে পারল না। এ অবস্থায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তখন ছিল দ্বাপর যুগ। সমাজজীবনে সন্ন্যাসের পরিবর্তে কর্মের দিকে মোড় ফেরানো হলো। তিনি ব্যাখ্যা করে বললেন, কর্মত্যাগ নয়, কর্ম করতে হবে ভোগের আকাঙ্ক্ষা বাদ দিয়ে। মনে করতে হবে সমস্ত জগৎ ভগবানের কর্মক্ষেত্র। এখানে মানুষ ভগবানেরই কর্ম করে যাচ্ছে এবং কর্মের ফলও ভগবানেরই প্রাপ্য। শ্রীমদভগবদগীতায় এই নিষ্কাম কর্মযোগের বিষয়টি বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কর্মযোগ অনুশীলন করে মানুষ মুক্তিলাভ করতে পারে। এরপর আসে ভক্তিবাদের কথা। মানুষ ভক্তিভরে ঈশ্বরকে সাকারে উপাসনা করতে থাকে। বহু দেব-দেবীর পূজা-পার্বণ হিন্দুসমাজে প্রচলিত হয়। এর ফলে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন দেব-দেবীর উপাসকগণ ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়েন, যেমন- শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব ইত্যাদি। এ সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে অসহিষ্ণু ভাব দেখা দেয়। এরূপ অবস্থায় শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব ঘটে। তিনি প্রেমভক্তিমূলক বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করেন। এ ধর্মের প্রধান লক্ষ্য ভক্তির মাধ্যমে ভগবানের আরাধনা করা, সমাজে বর্ণভেদ দূর করা ও শান্তি স্থাপন করা। উনবিংশ শতকে হিন্দুধর্মের অনেক আচার- আচরণে সংস্কার সাধন করা হয়। মূর্তিপূজার পরিবর্তে আসে এক ব্রহ্মচিন্তা। স্থাপিত হয় ব্রাহ্মসমাজ। অপরদিকে, মূর্তিপূজার মাধ্যমেও যে মানুষ ঈশ্বর লাভ করতে পারে, এ ধারণাটি শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের প্রচেষ্টায় হিন্দুধর্মে পুরাতন ও নতুন চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটে।

সুতরাং বলা যায়, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ধর্ম চেতনায় ভাবগত অনেক পরিবর্তন ঘটেছে যা স্বাভাবিক।

4 views

Related Questions