1 Answers
জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব পোষণ করার জন্য ভিক্ষুগণের সূত্র অর্থাৎ করণীয় মৈত্রী সূত্র আবৃত্তির উদ্যোগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
করণীয় মৈত্রী সূত্রের নৈতিক শিক্ষা হলো, প্রত্যেক জীবের প্রতি মৈত্রীভাৰ পোষণ করা। কোনো জীবকে অবহেলা না করা। কারো অমঙ্গল কামনা না করা। ঘুমে, জাগরণে, ধ্যানে সর্বদা সকল জীবের প্রতি মৈত্রী-ভাবনা করা উচিত।
কারণ মৈত্রী ভাবনা চিত্তকে সমাহিত করে। কায়-মন-বাক্য সংযত করে। বৈরিতা বা শত্রুতা দূর করে। ভালোবাসা জাগ্রত করে এবং নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করে সকল জীবের প্রতি মৈত্রীভাবাপন্ন হতে শিক্ষা দেয়। অস্থির বা স্থির, দীর্ঘ বা বড়, মধ্যম বা হ্রস্ব, ছোট বা স্কুল; দৃশ্য-অদৃশ্য, কাছের-দূরের, জন্মগ্রহণ করেছে বা করবে-এরূপ সকল প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে এবং সর্বদা মঙ্গলকামনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। বঞ্চনা ও অবজ্ঞা করা থেকে বিরত রাখে। হিংসা পরিত্যাগ ও ক্রোধ দমন করতে সাহায্য করে এবং আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ যথার্থরূপে অনুসরণে প্রেরণা যোগায়। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণকারী ব্যক্তি কায়-মন-বাক্যে কোনো পাপ করেন না। ফলে তাঁর দ্বারা কোনো অকুশল কর্ম সম্পাদনও সম্ভব হয় না। ফলে তিনি নিজে এবং তাঁর সঙ্গে বসবাসকারীগণ নিরুপদ্রব বা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন। এভাবে মৈত্রীভাবনাকারী তৃষ্ণা নিরোধ করে পুনর্জন্ম রোধ করে এবং নির্বাণ লাভ করতে সক্ষম হন।
তাই বলা হয়, স্বধর্মের পালনে বুদ্ধ দেশিত করণীয় মৈত্রী সূত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।