1 Answers
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের কর্মজ্ঞান ও ভক্তির মাধ্যমে পরমেশ্বরের দর্শন লাভের সহজ-সরল পথের নির্দেশনা পাই। তাই বলা হয় কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তিযোগের এক অপূর্ব সমন্বয় হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। কর্মযোগের আলোকে আমরা দেখতে পাই, সন্ন্যাসিগণ ইহজাগতিক কর্মকাণ্ড ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন। তাঁরা মনে করেন, কর্ম করলেই কর্মফল উৎপন্ন হবে। ঐ কর্মফল ভোগের জন্য কর্মকর্তাকে বার বার জন্ম-মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সন্ন্যাস গ্রহণ। কিন্তু দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, কর্মই জীবন। জীবনধারণের জন্য অবশ্যই কর্ম করতে হবে। সন্ন্যাসিগণও তা করে থাকেন। জ্ঞানযোগের মাধ্যমে উক্তগ্রন্থে পরমেশ্বরের উপস্থিতির শিক্ষা লাভ করা যায়। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী এবং বস্তুর গঠন এবং আচরণশৈলী গভীরভাবে দর্শনের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধির নাম জ্ঞানযোগ। এছাড়াও এখানে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধার বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অন্যতম একটি বিষয় হলো ভক্তিযোগ। এর মাধ্যমে মানুষ তার স্রষ্টার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। মানুষ ভক্তিযোগের মাধ্যমে স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভের আশায় প্রার্থনা করে। তাই বলা যায়, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তিযোগের এক অপূর্ব সমন্বয়।