'হাশেম সাহেবের ছেলের কণ্ঠে যেন কবি সুকান্তের সুর ধ্বনিত হয়েছে'- বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
'হাশেম সাহেবের ছেলের কণ্ঠে যেন কবি সুকান্তের সুর ধ্বনিত হয়েছে'- মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে যাদের শ্রমে সভ্যতা গড়ে উঠেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হয়েছে। তাদের দাবি শুধু খেয়েপরে বেঁচে থাকার। সেটুকুও শোষক, মহাজন, মজুদদাররা দিতে চায় না। শ্রমজীবীদের শ্রম শোষণ করে তারা বিলাসী জীবনযাপন করে। আর দায়িত্বনিষ্ঠরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটায়।
উদ্দীপকে একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও নিষ্ঠাবান ট্রাফিক পুলিশের জীবনযাপন এবং তার পরিবারের সকলের ক্ষোভের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে ট্রাফিক পুলিশ হাশেম সাহেব তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তার কলেজপড়ুয়া ছেলে তাকে সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। হাশেম সাহেব নিজের প্রতিও উদাসীন। তাই ছেলে তাকে নিজের প্রতি এবং স্ত্রী- সন্তানের প্রতি নজর দিতে বলেছে। উদ্দীপকে প্রতিফলিত হাশেম সাহেবের ছেলের কণ্ঠে যে আবেদন ফুটে উঠেছে, তা 'রানার' কবিতার কবির কণ্ঠেও ধ্বনিত হয়েছে। কবিও রানারকে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ রানারও নিজের প্রতি এবং তার স্ত্রীর প্রতি উদাসীন। কেবল অর্পিত দায়িত্ব পালনে সে রাতের অন্ধকারে ছুটে চলে। অবসর নেওয়ার অবকাশ তার নেই।
'রানার' কবিতায় রানার নতুন খবরের বোঝা কাঁধে মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর পেছনে ফেলে শহরের পানে ছুটে চলে। এই ছুটে চলার সঙ্গে সে তার জীবনের বহু আশা ও স্বপ্নও পেছনে ফেলে যায়। কেউ তার খোঁজ রাখে না। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সেও দায়িত্ব পালন করতে পারে না। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যও সে দিতে পারে না। কবি তাই রানারকে সমস্ত ভীরুতা পিছনে ফেলে নতুন জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তৎপর হতে বলেন। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মালিক-মহাজনদের শোষণের থাবা থেকে মুক্ত হবে সেই প্রত্যাশা করেন। এভাবে 'রানার' কবিতায় কবির কণ্ঠে যে বাণী ধ্বনিত হয়েছে তা উদ্দীপকের হাশেম সাহেবের ছেলের কথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।