1 Answers

নিজের ও অন্যের কল্যাণে দুঃখযন্ত্রণার মূল শিক্ষা যেন রিপনের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। এর বিশ্লেষণ হলো- 

উদ্দীপকের রিপন যীশুর শিক্ষা যথার্থভাবে ধারণ করেছেন। তিনি দুঃখকষ্টকে বড় করে দেখেননি। যীশুও কখনো নিজের দুঃখ কষ্টকে বড় করে দেখেননি বরং অন্যের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণায় সমব্যথী হয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন ও সান্ত্বনা দিয়েছেন। দয়া ও করুণাপূর্ণ হয়ে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যীশুর কাছে দুঃখকষ্ট, ব্যথা-যন্ত্রণা সবকিছু পরাজিত হয়েছে। চরম কষ্টকর কুশীয় মৃত্যর মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের জন্য মুক্তি বা পরিত্রাণ অর্জন করেছেন। যীশু প্রেরিত শিষ্যদেরও কষ্ট নিরাময়ের শক্তি তথা মানুষকে দুঃখযন্ত্রণা থেকে মুক্ত করার শক্তিদান করেছেন। তেমনি রিপনের মাঝেও আমরা নিজের ও অন্যের কল্যাণে দুঃখযন্ত্রণার মূল শিক্ষার প্রতিফলন দেখতে পাই।

আমাদের নিজেদের খ্রিষ্টের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে, কারণ আমরা ঈশ্বরের পুত্রের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরসন্তানের মর্যাদা লাভ করেছি এবং সন্তান হতে গিয়ে আমাদের কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। এখন আমরা বুঝতে পারি, কেন যীশুর শিষ্যগণ যীশুর নামে কষ্ট ভোগ করতে পেরে আনন্দিত হতেন এবং কষ্ট ভোগ করতে পেরে তারা খ্রিষ্টের কষ্টের সাথে অংশগ্রহণ করতেন। স্বর্ণ যেমন আগুনে পুড়িয়ে এর খাঁটিত্ব প্রমাণ করে, তেমনি কষ্টের কারণে প্রাপ্ত ব্যথার দ্বারা আমরা পরিশোধিত হই। এ ব্যথাই আমাদের পিতা ঈশ্বরের যোগ্য সন্তানে পরিণত করে। এভাবে আমরা খ্রিষ্টের গৌরবে অংশগ্রহণ করতে পারি। ঈশ্বর নিজেই আমাদের মধ্যে বসবাস করেন। সাধু পল বলেন, আমাদের দেহ হচ্ছে পবিত্র আত্মার মন্দির। কাজেই আমরা যখন কষ্টভোগ করি তখন ঈশ্বর নিজেই আমাদের মধ্যে অবস্থান করেন এবং তিনি আমাদের কষ্টভোগ করতে দেখেন। আমরা যখন উপলদ্ধি করতে সক্ষম হই যে, ঈশ্বর নিজেই আমাদের মধ্যে আছেন, তখন আমরা আর নিজের উপর ভরসা করি না। আমরা তখন পুরোপুরি ঈশ্বরের উপর। এ ভরসা করতে পারি যে, তিনিই কষ্টের সময় আমাদের শক্তি জোগাবেন এবং ভালো কাজ ক্রমাগত করে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন। 

মূলকথা: কযন্ত্রণা দ্বারা আমরা ঈশ্বরের যোগ্য সন্তানে পরিণত হই।

5 views

Related Questions