1 Answers
ইসলাম ন্যায়নীতি ও সাম্যের ধর্ম। ইসলামে প্রবর্তিত প্রতিটি বিধানই মানবজাতির জন্য কল্যাণকর। মানবজীবনের এমন কোনো দিক নেই যে, ইসলামে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয় নি। যেমন- শ্রমিকের পারিশ্রমিক প্রদানের রীতিও ইসলাম বলে দিয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" পারিশ্রমিক দিতে অকারণে বিলম্ব করা সমীচীন নয়। শ্রমিক যাতে শ্রমের সঠিক মূল্য পায় সেজন্য মহানবি (স.) বলেছেন, "মজুরের বেতন নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিযুক্ত করবে না।” শ্রমিক-মালিকের কার্যকলাপের যে নীতিমালা মহানবি (স.) দিয়েছেন তা অনুসরণ করলে শ্রমিক তার ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হবে না এবং মালিক-শ্রমিকের মধ্যে কোনোদিন মনোমালিন্যও হবে না।
উদ্দীপকের রমিজ সাহেব মহানবি (স.)-এর নীতিমালা অগ্রাহ্য করে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে গড়িমসি করেন। এ নিয়ে মালিকের সঙ্গে প্রায়ই শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয় এবং তাদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ জন্ম নেয়। এ পর্যায়ে এ অসন্তোষই ক্ষোভ হয়ে বিস্ফোরিত হয়। ফলে নানারকম অপ্রীতিকর ঘটনার উদ্ভব ঘটে। কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তিনি আইনের আশ্রয় নেন। কিন্তু কোনো সুষ্ঠু সমাধান এর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে না।
পরিশেষে বলা যায়, রমিজ সাহেব ইসলামের রীতি অনুসরণ করে শ্রমিকের পারিশ্রমিক প্রদান করলে যেমন তার কারখানায় অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারণা হতো না, অধিকন্তু তার কারখানায় পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকত। কাজেই রমিজ সাহেবকে অবশ্যই ইসলামের রীতি মেনে শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিতে হবে।