দৃশ্য-১ এ সোমার জানা তথ্যে ঈশ্বরের যে রূপ ফুটে উঠেছে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)
1 Answers
দৃশ্য-১ এ সোমার জানা তথ্যে ঈশ্বরের যে রূপ ফুটে উঠেছে সেটি হলো আত্মারূপে ঈশ্বর।
পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। পরমাত্মা যখন জীবের মধ্যে অবস্থান করেন, তখন তিনি জীবাত্মার রূপ ধারণ করেন। দৃশ্য-১ এ দেখা যায়, সোমা মন্দিরে গিয়ে মানবদেহকে কাপড়ের সাথে তুলনা করার বিষয়টি জানতে পারে। এর দ্বারা আত্মারূপে ঈশ্বরের স্বরূপকেই উপস্থাপন করা হয়েছে। আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। একই পরমাত্মা বন্ধু আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করেন। জীবদেহের বিনাশ আছে, কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশবিশেষ। পরমাত্মার সকল গুণই জীবাত্মার মধ্যে বিদ্যমান। তাই পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মাও জন্ম-মৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, "এ আত্মা জন্মেন না, মরেন না। ইনি নিত্য বিদ্যমান। ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীরের বিনাশ ঘটলেও, ইনি বিনষ্ট হন না (গীতা, ২/২০)।” আত্মার দেহান্তর ঘটে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে- 'বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী'। (২/২২)
অর্থাৎ মানুষ যেমন পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। আত্মার এই দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে। গীতায় শ্রীকৃষ্ণের উক্তিতেও জানা যায়- “আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হয়েও চিরনতুন।" দৃশ্য-১ এ সোমার জানা তথ্যে ঈশ্বরের উক্ত রূপই ফুটে উঠেছে।