1 Answers

উদ্দীপকে ১৯৬১ সালে আসামের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সামঞ্জস্য রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।

অতএব বলা যায়, আসামের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

6 views

Related Questions