1 Answers
রিয়াদের পরিবারে প্রার্থনা সচেতনতা যেন ঈশ্বরের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ।" উক্তিটি সম্পর্কে মতামতের পক্ষে যুক্ত হলো-
* প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের উপস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন হই ও তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হই। ঈশ্বর সবসময় আমাদের সঙ্গে আছেন, কিন্তু আমরা তা সবসময় উপলদ্ধি করি না: এটি যেন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো। যেমন আমরা অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারি না, তাই প্রতিনিয়ত আমরা বাতাসের সাথে অক্সিজেন গ্রহণ করে চলছি। আমরা সবসময় এ বিষয়ে সচেতন থাকি না। বরং আমরা অবচেতন মনেই এ অক্সিজেন বা প্রাণবায়ু গ্রহণ করছি। যখন একটু সচেতন হই, মাত্র তখনই আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এ অক্সিজেন শ্বাসের সাথে গ্রহণ না করলে আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে নির্ঘাত মারা যাবো।
* আমরাও ঐশ জীবনের মধ্যে ডুবে আছি, তাঁর জীবনজল পান করে বেঁচে আছি। কিন্তু আমরা তা সবসময় উপলব্ধি করি না। যখন আমরা শান্ত মন নিয়ে নিরবে বসি এবং প্রার্থনায় প্রবেশ করি, তখন আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে, আমরা তাঁর প্রেমময় উপস্থিতির মধ্যে রয়েছি। ঈশ্বর যেন অসীম এক জীবনসমুদ্র, আর আমরা ধনী-গরিব, পাপী-ধার্মিক সবাই তার জীবনজল পান করে চলেছি, আর বেঁচে রয়েছি; এ জীবনসমুদ্রেই আমাদের জীবন, অর্থাৎ ঈশ্বরের মধ্যেই আমাদের জীবন।
* জলের বাইরে যেমন মাছ বাঁচতে পারে না ঠিক তেমনিভাবে ঈশ্বর ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। প্রার্থনার মধ্য দিয়েই আমরা ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলদ্ধি করি, তার সাক্ষাতে উপস্থিত হই, তাঁর প্রেম, শান্তি ও পবিত্রতা উপলব্ধি করি, যে ব্যক্তি প্রার্থনায় ও ধ্যানে যত বেশি তার উপস্থিতি উপলব্ধি করে, সে তত বেশি তার পবিত্রতা, প্রেম, শান্তি ও আনন্দ উপলদ্ধি করে।
* প্রার্থনা আমাদের আত্মার খাদ্য ও পানীয়, তা আমাদের প্রাণের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটায় এবং প্রার্থনা আমাদের প্রাণে আনে পরম প্রশান্তি ও হৃদয়ে জাগায় আনন্দ। আর এ শাস্তি ও আনন্দ আসে স্বয়ং ঈশ্বরেরই কাছ থেকে। প্রার্থনাই আমাদেরকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়: প্রার্থনার মধ্য দিয়েই আমরা তাঁকে দেখি ও তার বাণী শুনি।
মূলকথা: প্রার্থনা সচেতনতা ঈশ্বরের উপস্থিতির বহিঃপ্রকাশ।