1 Answers
'কমলবাবু আত্মারূপে জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন'- এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি একমত।
হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্রষ্টাকে ব্রহ্ম, ঈশ্বর বা ভগবান বলে অভিহিত করেন। জ্ঞানীদের কাছে ঈশ্বর ব্রহ্ম, যোগীদের কাছে ঈশ্বর পরমাত্মা এবং ভক্তের নিকট তিনি ভগবান নামে পরিচিত। পরমাত্মা জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তিনি জীবাত্মার রূপ ধারণ করেন। এই পরমাত্মা থেকেই জীবের সৃষ্টি। আত্মা নিত্যবস্তু ও নিরাকার। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। একই পরমাত্মা বহু, তাদের আত্মারূপে জীবদেহের মধ্যে অবস্থান করেন। জীবদেহের বিনাশ আছে কিন্তু আত্মার বিনাশ নেই। কারণ জীব পরমাত্মার অংশবিশেষ। পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মা জন্ম-মৃত্যুহীন এবং শাশ্বত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-
অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ।
অহমাদিশ্চ মধ্যজ্ঞ ভূতানামন্ত এব চ।
অর্থাৎ, হে অর্জুন। আমি সকল প্রাণীর হৃদয়স্থিত আত্মা, আমি ভূত সকূলের আদি, মধ্য ও অন্ত।
ঈশ্বরই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করছেন। এ কথা উপলব্ধি করে আমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব এবং জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে ভালোবাসব ও সেবা করব।