1 Answers
নারী-পুরুষের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উক্তিটি যুক্তিসহকারে উপস্থাপন করা হলো-
সৃষ্টির শুরুতে ঈশ্বর শুধু একজন পুরুষ ও একজন নারী সৃষ্টি করেছেন। এর অর্থ এই যে, একজন পুরুষের মাত্র একজন স্ত্রী থাকবে। এবং একজন নারীর একজন স্বামীই থাকবে; তারা দুজনই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে গড়া। পারিবারিক বা দাম্পত্য জীবনে নারী-পুরুষের সুস্থ সম্পর্ক বলতে বিবাহিত জীবনের মধ্য দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার সম্পর্ককে বোঝায়। ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করার পর বলেছেন, মানুষের একা থাকা ভালো নয়। তাই তারই মতো করে আরেকজনকে সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে তিনি স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তারা হৃদয়ের টানে একে অপরের কাছে আসে এবং প্রত্যেকে একে অপরের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করে। খ্রিষ্টভক্তদের জন্য তা একটি পবিত্র সাক্রামেন্ত, যা গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বামী-স্ত্রী ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করে এবং তারা তাদের ভালোবাসার দায়িত্ব গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সৃষ্টিকাজে তাদের নিজেদের সম্পৃক্ত করে। কাজেই এ সম্পর্ক পবিত্র। এ সম্পর্কের মর্যাদা ও পবিত্রতা বজায় রাখা খ্রিষ্টীয় স্বামী-স্ত্রীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে ঈশ্বর তার আপন প্রতিমূর্তিতে, আপন সাদৃশ্যে এবং পুরুষ ও নারী করে সৃষ্টি করেছেন; এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিটি মানুষকে স্ব-স্ব মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। তাই পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো ধরনের ভেদাভেদ বা পার্থক্য থাকতে পারে না, তারা সম্মান ও মর্যাদার দিক দিয়ে প্রত্যেকে সমান। তবে শারীরিক গঠন ও মানসিক ধ্যানধারণা বা চিন্তাধারার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, যা আমরা প্রত্যেকেই জানি ও স্বীকার করি। এ ভিন্নতা সৃষ্টিকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে, মানুষকে করে তুলেছে। পরস্পরের পরিপূরক বা সহায়ক।
নারী ও পুরুষ একই ঈশ্বরের সৃষ্টি, ঈশ্বর নারী ও পুরুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ হিসেবে নারী ও পুরুষ এক হলেও শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে কিছু ভিন্নতা রয়েছে; একে অন্যের চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদির মধ্যে সেই ভিন্নতা বেশি করে লক্ষ করা যায়। তাই নারী-পুরুষের সুস্থ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে যেহেতু এ বিষয়গুলো বেশি প্রভাব বিস্তার করে, সেহেতু এ সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকতে হয় এবং এ ক্ষেত্রে উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মূলকথা: নারী পুরুষ একই ঈশ্বরের সৃষ্টি।