1 Answers

উদ্দীপকের মিলিতা ও অন্য ছাত্রীদের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

* ব্যক্তিস্বাত বলতে আমরা বুঝি, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির ভিন্নতা। সাধারণভাবে পৃথিবীর সব মানুষ একই রকম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গঠিত হলেও প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিত্ব আলাদা বা ভিন্ন, অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের দিক থেকে মানুষে মানুষে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মনোবিজ্ঞানীগণ মানুষের কতগুলো মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্বের শ্রেণিবিভাগ করলেও পৃথিবীতে যত রকম মানুষ আছে, তত রকম ব্যক্তিত্বও আছে। তার নিজস্ব পরিবেশ, পটভূমি ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই তার ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। স্বভাবগুণে মানুষের কিছুটা মিল থাকলেও মূলত একজন মানুষ আরেকজন মানুষ থেকে আলাদা, যেমন মিলিতা অন্য ছাত্রীদের থেকে আলাদা।

* মানুষে মানুষে পছন্দ, অপছন্দ ও রুচিবোধের মধ্যেও ভিন্নতা রয়েছে। এর কারণেও মানুষ আলাদা। নানা বিষয়ে এ ভিন্নতা লক্ষণীয়। যেমন: পোশাকপরিচ্ছদ, খাবারদাবার, জীবনসঙ্গী বা বন্ধু নির্বাচন, পরিবেশ, রং ইত্যাদি বিষয় নির্বাচনেও মানুষের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। 

* মূল্যবোধের পার্থক্যের কারণে মানুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যে অনেক বড় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব মূল্যবোধ বা বিশ্বাসের ধারা রয়েছে, যে অনুসারে সে আচরণ করে এর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তার স্বাধীন ব্যক্তিত্ব। 

* মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি মানুষ তার সত্তা নিয়ে একজন স্বাধীন মানুষ হয়ে ওঠে। মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে সে হয় একক। তখন থেকেই তার মধ্যে গড়ে ওঠে আলাদাভাব। ঈশ্বর প্রতিটি মানুষকে তার শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এ স্বাধীনতাই মানুষকে অনন্য করে তোলে। আবার কখনও কখনও উদ্দীপকের মিলিতার মতো ঘৃণিত করে। স্বাধীনতা ব্যবহার করেই মানুষ নিজ নিজ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ভালো বা মন্দ কাজ করে থাকে। 

মূলকথা: প্রতিটি মানুষ অন্যদের থেকে আলাদা।

5 views

Related Questions